প্রতিবছর ১ জুলাই ভারতে পালন করা হয় জাতীয় চিকিৎসক দিবস। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ত্যাগ, উদ্যম এবং এই জীবিকার প্রতি তাদের আত্মোৎসর্গকে সম্মান জানানোর জন্য সারা দেশে এই দিনটি পালিত হয়। প্রধানত, পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী ডঃ বিধানচন্দ্র রায়ের জন্ম ও মৃত্যুদিন হিসেবেই এই দিনটি পরিচিত। একজন বিখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসক হিসেবেও তাঁর ভারত জোড়া খ্যাতির জন্য ১৯৯১ সালে প্রথমবার এই দিনটিকে জাতীয় চিকিৎসক দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
এই দিনটিতে সারা ভারতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সমাজমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে চিকিৎসকদের সুস্থতা কামনা করে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করা হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের নিয়ে সম্প্রতি ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন-এর তরফে করা একটি সমীক্ষায় উঠে আসা তথ্য একইসঙ্গে চাঞ্চল্যকর ও ভীতিজনক। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতের ৮২ শতাংশ চিকিৎসকই মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। এমনকি অধিকাংশ চিকিৎসক দিনে ন্যূনতম সাত ঘণ্টাও ঘুমাতে পারেন না। এর পাশাপাশি, তরুণ চিকিৎসকদের চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে রোগীরা চিকিৎসকদের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলছেন। যা এই মহান পেশাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে বলে সমীক্ষার পরিশেষে জানানো হয়েছে।
সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, সবচেয়ে বেশি মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন নিউরোসার্জনরা। তাদের চিকিৎসা পদ্ধতিতে ঝুঁকি ও তুলনামূলক বেশি মনঃসংযোগের চাহিদার জন্য এমনটা হচ্ছে। কেআইএমএস হাসপাতালের মেডিক্যাল সার্ভিসেস-এর ডিরেক্টর ডঃ সম্বিত সাহু এই নিয়ে জানিয়েছেন, “দীর্ঘ কর্মসূচী ও প্রচণ্ড ক্লান্তিকর সময়সূচীর কারণে একেকজন চিকিৎসককে দিনে গড়ে প্রায় ৪০ থেকে ৬০ জন রোগী দেখতে হয়। এর জন্য তাঁদের ধৈর্যশীল, অমায়িক ও পেশার প্রতি কর্তব্যপরায়ন হতে হয়। তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাঁরা কাজের মাঝে বিশ্রামের জন্য বিরতি নেন না বললেই চলে। কিন্তু এটা তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে।”
তিনি আরও জানিয়েছেন, “তাই কাজের মাঝে বিরতি নেওয়াটা খুব প্রয়োজনীয়। আর কতটা সময় বিশ্রামের জন্য যথেষ্ট সেটা ব্যক্তি বিশেষের উপর নির্ভর করে। অনেক সময় চিকিৎসকরা কোনও ছুটি না নিয়ে কোনও বিশ্রাম ছাড়াই দীর্ঘদিন একটানা কাজ করেন। তারপর সপ্তাহের শেষে বাইরে গিয়ে অন্যান্য চিকিৎসকদের সঙ্গে বিভিন্ন ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করে রোগীদের জন্য নিত্যনতুন চিকিৎসা পদ্ধতি খুঁজে বের করেন যা তদের মনকে বিভ্রান্ত করে।”
এসএলজি হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের এইচওডি এবং সিনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ পি. রঙ্গনাধাম বলেছেন: দেশে এখন প্রচুর ক্লিনিক তৈরি হয়েছে। উচ্চ চিকিত্সা ব্যয় এবং দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় নানা দুর্নীতির ফলে রোগীরা ডাক্তারদের উপত আস্থা হারাতে শুরু করেছে। ডাক্তাররাও সহিংসতার ভয়ে কুঁকড়ে থাকছেন। আমি মনে করি, ক্রিটিক্যাল কেয়ার, ইউরোলজি, কার্ডিওলজি, নিউরো স্পেশালিস্ট এবং গাইনোকোলজিতে কাজ করা কনসালটেন্টরা সবচেয়ে বেশি চাপে থাকেন।"
আমোর হসপিটালস-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডাঃ কিশোর বি. রেড্ডি বলেছেন, "ডাক্তাররা সত্যিই সবচেয়ে মানসিকভাবে চাপযুক্ত মানুষ। সার্জন থেকে শুরু করে সাধারণ চিকিত্সক থেকে শুরু করে ডেন্টিস্ট, প্রত্যেক বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রোগীদের সাথে কথা বলার সময়, অগণিত পরিমাণে চাপের সাথে মোকাবিলা করেন।"
স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন