বিহারের রাজধানী পাটনায় গত এক মাসে হত্যার ঘটনা প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষকে হতবাক করেছে। পুলিশ রেকর্ড অনুসারে পাটনায় জুলাই মাসে প্রতি দু'দিনে একটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। যে ঘটনায় রাজধানীর আইন শৃঙ্খলা নিয়ে আরও একবার প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
গত জুলাই মাসে খুনের ১৬ টি এবং খুনের চেষ্টার ১১ টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এরপর রবিবার (১ আগস্ট), শহরে আরও দুটি খুনের খবর পাওয়া গেছে। প্রথম ঘটনাটি পারসা বাজার রেলওয়ে স্টেশনের কাছে নথিভুক্ত করা হয়। যেখানে অজ্ঞাত হামলাকারীরা অটো চালক জিতেন্দ্র কুমার সিং (৫৫) কে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে। ট্রেনি উপ-পুলিশ সুপার প্রিয়া জ্যোতি বলেন, সম্ভবত পৈতৃক সম্পত্তির বিরোধের কারণে হামলাকারীরা তাকে হত্যা করেছে। "মৃতের ছেলে তার তিন সৎ ভাইয়ের বিরুদ্ধে তার বাবাকে হত্যার অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্ত চলছে।"
অন্য ঘটনাটি ঘটেছে পাটনা শহর অঞ্চলের আম্বেদকর হোস্টেলে। যেখানে এক অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপকের ছেলে বিষ্ণু কুমার সিম্মাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
বাহাদুরপুর থানার এসএইচও সানোয়ার খান বলেন: " ওই হোস্টেলের দু'দল ছাত্রের মধ্যে যখন ঝামেলা চলছিলো সম্ভবত সেই সময় বিষ্ণু কোনোভাবে গুলির নিশানায় এসে যায়। তাকে মাথায় গুলি করা হয়েছিল এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় তাঁর ভাইয়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে "আমরা অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রাসঙ্গিক আইপিসি ধারার অধীনে একটি এফআইআর নথিভুক্ত করেছি।"
জুলাই মাসে, প্রথম হত্যার খবর পাওয়া যায় ৪ জুলাই, ওইসময় জানিপুর এলাকায় এক যুবক নিহত হয়। আলমগঞ্জের এক কুখ্যাত অপরাধী মিথিলেশ গোপকে হত্যা করা হয় ৬ জুলাই। একই দিনে পাটনা সিটি চক এলাকায় এক অটো চালককে হত্যা করা হয়।
গত ৯ জুলাই শাস্ত্রীনগর এলাকায় এক সবজি ও ফল বিক্রেতাকে হত্যা করা হয়। এরপর ১৪ জুলাই পিপড়া এলাকায় নব বিবাহিত এক মহিলাকে হত্যা করা হয় এবং ১৫ জুলাই মোকামায় এক রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারকে হত্যা করা হয়।
১৭ জুলাই মুসেপুর গ্রামে ডাকাতির সময় একজন বয়স্ক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। এছাড়াও ওই দিনেই মাসাউদি শহরে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তৃতীয় ঘটনাটি ঘটে পাটনা বাইপাস রোডে। যেখানে ১২ বছরের একটি নাবালককে খুন করা হয়েছিল।
১৯ জুলাই পান্ডারক এলাকায় এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ২০ জুলাই মাসাউদি এলাকায় এক যুবককে চেয়ার চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
২১ জুলাই পাটনা শহরের চক এলাকায় পঙ্কজ কুমার নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হন। ২৫ জুলাই মালসালামি এলাকায় এক মাছ ব্যবসায়ী নিহত হন। ওই দিনেই আলমগঞ্জে এক ই-রিক্সা চালককে গুলি করে হত্যা করা হয়। ২৬ জুলাই পাটনায় এক মহিলা তার প্রেমিকের সাহায্যে তার স্বামীকে হত্যা করে। ৩১ জুলাই নৈবতপুরে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় এবং ফুলওয়ারী শরীফ এলাকায় একজন বৃদ্ধকে হত্যা করা হয়।
পাটনার ক্রমবর্ধমান অপরাধ গ্রাফ দেখার পর প্রশাসনিক আধিকারিকরা জানান যে, সংগঠিত অপরাধ প্রতিরোধ করা যায়, কিন্তু ব্যক্তিদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধ বন্ধ করা সমস্যার, বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাটনা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, "আমরা সর্বনিম্ন সম্ভাব্য সময়ে প্রতিটি অপরাধের ঘটনায় তদন্ত চেষ্টা করছি এবং অপরাধমনস্ক ব্যক্তিদের এক কড়া বার্তা দিতে চাইছি। একবার আমরা দ্রুত বিচারের হার অর্জন করতে পারলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেলার অপরাধের গ্রাফ কমিয়ে আনবে,"
পাটনার সিনিয়র পুলিশ সুপার উপেন্দ্র শর্মার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি।
- with inputs from IANS
স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন