আগামী ২৬ মে কৃষকদের ডাকা 'কালা দিবস'কে সমর্থন জানালো বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন। বিতর্কিত তিন কৃষি আইন বাতিল, বিনামূল্যে সকলের জন্য ভ্যাকসিন সহ একাধিক দাবিতে এদিন সমস্ত দেশবাসীকে কালা দিবস পালন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আগামী ২৬ মে ভারতীয় গণতন্ত্রের কালা দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা। এই দিন দিল্লি সীমান্তে চলা কৃষক আন্দোলনের ছ'মাস পূর্ণ হবে। এছাড়াও ২০১৪ সালের এই তারিখেই প্রথমবার নরেন্দ্র মোদীর সরকার গঠন হয়েছিল।
কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলোর তরফ থেকে প্রকাশ করা এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত সাত বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি শাসিত মোদী সরকার। ক্ষমতায় আসার আগে যে বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি, সাত বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও তা পূরণ করা তো দূর, বরং সেই প্রতিশ্রুতির সম্পূর্ণ উল্টোদিকে হেঁটেছে এই সরকার। করোনা মহামারীর ভয়াবহ দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার সময় নির্লজ্জভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করেছে। ভ্যাকসিন, অক্সিজেন, হাসপাতাল বেড, ওষুধের ব্যাপক ঘাটতি দেখা গিয়েছে দেশে। এমনকি মৃতের সংখ্যা এতো বেশি যে শ্মশানেরও অভাব দেখা গিয়েছে। এই সবকিছুই প্রমাণ করছে গুরুতর সঙ্কটের মুহূর্তে একটা সরকারের কী করণীয় তা নিয়ে বিন্দুমাত্র ধারণা নেই এই সরকারের।
কেন্দ্রীয় ইউনিয়নগুলোর অভিযোগ, এই মহামারীর সময়কে কাজে লাগিয়ে কর্পোরেটদের সুবিধার্থে বেশ কিছু আইন তৈরি করেছে সরকার। বিতর্কিত তিন কৃষি আইন, চারটি শ্রম কোড বা একাধিক সরকারি সংস্থার বেসরকারিকরণ তারই প্রমাণ। এই আইনগুলো সাধারণ মানুষ চাননা।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মহামারীর সময় সরকারের উচিত ছিল অভিবাসী শ্রমিক, অসংগঠিত খাতে কাজ করা শ্রমিক, কাজ হারানো ব্যক্তিদের জন্য খাদ্যশস্য, নগদ অর্থ এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে তাঁদের সহায়তা করা। ধনীদের থেকে কর আদায় করা, ফ্রন্টলাইন যোদ্ধাদের জন্য বীমা করা, MNGREGA-র জন্য অর্থ বরাদ্দ করা, শহরাঞ্চলে অনুরূপ কর্মসংস্থান গ্যারন্টি স্কিম আনা এই সময় সরকারের অন্যতম প্রধান কর্তব্য। কিন্তু সরকার এই সমস্ত ক্ষেত্রেই পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
কালো ব্যাজ পরে, বিভিন্ন জায়গায় কালো পতাকা উত্তোলন করে ২৬ তারিখ কালা দিবস পালন করবে কেন্দ্রীয় ইউনিয়নগুলো। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিশ্রাম নেবে না তাঁরা।
তাদের দাবির মধ্যে আছে -
১) সমস্ত দেশবাসীকে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দিতে হবে।
২) নিরপেক্ষভাবে সমস্ত বেকারদের খাদ্যশস্য ও প্রতি মাসে নগদ ৭,৫০০ টাকা দিয়ে সাহায্য করা
৩) বিতর্কিত তিন কৃষি আইন ও বিদ্যুৎ (সংশোধনী) বিল প্রত্যাহার করতে হবে।
৪) ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের আইনি গ্যারান্টি।
৫) ৪টি শ্রম কোড বাতিল করা এবং ভারতীয় শ্রম সম্মেলনের আয়োজন করা।
৬) বেসরকারিকরণ নীতি বন্ধ করা।
স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন