গত ১ লা জুন থেকে প্রায় প্রতিদিন পূর্ব মহারাষ্ট্রের ইয়াভাতমল জেলায় ১ জন করে কৃষক আত্মঘাতী হয়েছেন। বিদর্ভ জন আন্দোলন সমিতির সভাপতি কিশোর তেওয়ারী চাঞ্চল্যকর এই দাবি করেছেন।
কিশোর তেওয়ারী সংবাদ সংস্থা আইএএনএসকে জানান, গত ৮৩ দিনে বিদর্ভের এই অঞ্চলে ৮২ জন কৃষক আত্মঘাতী হয়েছে। তাঁর আরও দাবি, জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে এখনও পর্যন্ত বিদর্ভ অঞ্চলের ১০টি জেলায় প্রায় ১,৫৬৭ জন কৃষকের প্রাণ গেছে ওই অঞ্চলে। যার মধ্যে একাধিক মহিলাও আছে।
গত ৮ মাসে ১,৫৬৭ জন কৃষকের আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনা দেশের কৃষক আত্মহত্যায় বিগত ২৫ বছরের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এই তথ্যের উল্লেখ করে তেওয়ারী বলেন, দু’দিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছেন ভারত গত ৯ বছরে কৃষিতে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য উল্লেখ করে তেওয়ারি বলেন, প্রধানমন্ত্রী একথা বললেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটা সত্যি যে শুধুমাত্র একটি অঞ্চলের একটি জেলাতেই যদি এত মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে দেশের অন্যান্য রাজ্য এবং অঞ্চলের সমস্ত তথ্য যোগ করলে এই সংখ্যা ভয়ংকর আকার নিতে পারে।
বিদর্ভ জন আন্দোলন সমিতির সভাপতি বলেন, দেশের কৃষিক্ষেত্রে কৃষিপণ্যের দাম, সারের দাম, বীজের দাম নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এখনও পর্যন্ত মুখ বন্ধ করে রেখেছে। অথচ সারা দেশের সাধারণ কৃষকরা, বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের কৃষকরা এই বিষয়গুলো নিয়েই সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়ছেন এবং নিজেদের জীবন শেষ করে দিচ্ছেন।
বর্তমানে বিদর্ভ অঞ্চলের সফররত, শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা ভারতীয় জনতা পার্টি সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বিগত ১০ বছরে কেন্দ্র ও রাজ্যের তথাকথিত ত্রাণ প্যাকেজগুলো দুঃস্থ কৃষকদের কোনও সহায়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
তিওয়ারি আরও বলেন, সব প্রতিশ্রুতি এবং আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও আত্মহত্যা থামছে না। কারণ স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতি, রাজনৈতিক উদ্যোগের অভাব এবং এক অসংবেদনশীল প্রশাসনের কারণে ‘গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে পড়েছে’। সরকার এখন চাঁদ দেখতে ব্যস্ত। যা না করে উচিত ছিল পৃথিবীর এই নরকের দিকে নজর দেওয়া, যেখানে কৃষকরা সারা জীবন অক্লান্ত পরিশ্রম করে এবং ফসল ফলিয়েও ন্যায্য দাম পায় না।
কৃষকদের মৃত্যু বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসল তুলো, বর্তমানে যার চাহিদা খুব কম। ফলে অর্থনীতি থমকে গেছে, চাষের খরচ হঠাৎ করে বেড়েছে এবং পাবলিক সেক্টরের ব্যাঙ্কগুলি খুব কম বা কোনও ঋণ দিচ্ছে না। এই অঞ্চলের জন্য উপযুক্ত খাদ্যশস্য, ডাল এবং তৈলবীজ শস্য সরবরাহ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার ব্যর্থ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু বিপর্যয়ের প্রভাব।
ভিজেএএস প্রধান বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অবশ্যই এই সংকটে ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করতে হবে। কারণ এটা নির্বাচনের বছর। সরকার আগামী দিনে ভারতকে পাঁচ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থনীতিতে পরিণত করার যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে তা ‘দ্রুতই ফাঁপা প্রমাণিত হচ্ছে’।
স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন