উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে একের পর এক বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে সমাজবাদী পার্টিতে যোগদানের ফলে আগামীদিনে সমস্যায় পড়তে পারে সমাজবাদী পার্টি। এই অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। তাঁদের মতে, প্রতিটি আসনে একাধিক দাবিদার এবং নতুন যোগদানকারীর পক্ষ থেকে আসনের দাবি এসপি সভাপতি অখিলেশ যাদবের জন্য সমস্যা তৈরি করতে বাধ্য, যা আগামী দিনে দলীয় স্তরে সামলানো কঠিন হয়ে উঠবে।
ইতিমধ্যেই এগারোজন বিধায়ক বিজেপি থেকে সমাজবাদী পার্টিতে এসেছেন, এবং নয়জন বিধায়ক আগে বিএসপি থেকে এসেছেন। এছাড়াও অন্যরা, যারা গত কয়েক মাস ধরে এসপিতে যোগ দিয়েছেন, তারা সকলেই মনোনয়নের দাবিদার।
সমাজবাদী পার্টির এক নেতা জানিয়েছেন, "এখনও পর্যন্ত অন্যান্য দলের প্রায় চার ডজন নেতা রয়েছেন যারা এসপি-তে যোগ দিয়েছেন এবং মনোনয়ন চান। এছাড়াও, এসপি রাষ্ট্রীয় লোকদল সহ প্রায় ৬০ টি টিকিট দেবে। এর অর্থ হল, সমাজবাদী পার্টির কাছে প্রায় ১০০ টি আসন থাকছে না। কিন্তু এইসব অঞ্চলের নেতারা যারা গত পাঁচ বছরে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় নিরলসভাবে কাজ করেছেন তাঁরাও মনোনয়নের দাবিদার।”
বিজেপির স্বামী প্রসাদ মৌর্য, দারা সিং চৌহান, ধরম সিং সাইনি, কংগ্রেসের ইমরান মাসুদ এবং বিএসপি-র রাম আচল রাজভার এবং লালজি ভার্মার মতো শীর্ষ নেতাদের প্রবেশ তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় এসপি কর্মীদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
আম্বেদকর নগর থেকে সমাজবাদী পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী এক নেতা জানিয়“ছেন, "নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস আগে অন্য দলের নেতাদের দলে অন্তর্ভুক্ত করা, যারা এতদিন ধরে দলের হয়ে কাজ করেছেন তাদের জন্য অনৈতিক এবং অন্যায্য। আমরা পাঁচ বছর ধরে পরিশ্রম করি এবং তারপর একজন নেতা অন্য দল থেকে এসে টিকিট কেড়ে নেন। এই ধরণের পরিস্থিতিতে আমাদের কী করা উচিৎ?"
উদাহরণ স্বরূপ, সমাজবাদী পার্টির বিধায়ক মনোজ পান্ডে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে উনচাহার আসন থেকে বর্তমান বিধায়ক। তিনি স্বামী প্রসাদ মৌর্যের ছেলে উৎকর্ষ মৌর্যকে দুবার পরাজিত করেছেন। সেই সময় উৎকর্ষ মৌর্য একবার বিএসপির টিকিটে এবং অন্যবার বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। মৌর্য এই সপ্তাহে সমাজবাদী পার্টিতে যাওয়ার পর থেকে পান্ডে চিন্তায় পড়েছেন। এই আসনে মনোনয়ন দেওয়া নিয়ে অখিলেশকে কঠিন সমস্যায় পড়তে হবে।
সূত্র অনুসারে, তিনি প্রয়াগরাজ থেকে মৌর্যের ছেলেকে একটি আসন দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও সেই সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
সাহারানপুরে, এসপির দুই নতুন নেতা - ধরম সিং সাইনি এবং ইমরান মাসুদ। এসপিতে তাদের যোগদানের সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই সাহারানপুরে কিছু নেতা এবং তাদের সমর্থকদের অস্থির করে তুলেছে। এই অস্থিরতা শুধু সমাজবাদী পার্টিতে নয়, তাদের জোটের অংশীদার আরএলডিতেও দেখা দিয়েছে। কারণ পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে আরএলডি-র ভালো প্রভাব আছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক আর কে সিং জানিয়েছেন, সমাজবাদী পার্টির বেশ কিছু দায়বদ্ধ কর্মীবাহিনী আছে। কিন্তু যদি তারা দলের সিদ্ধান্তে অখুশি হন, তবে তা দলের জন্য মঙ্গলজনক হবে না। এই ক্যাডাররা বিগত পাঁচ বছরে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েও নেতৃত্বের প্রতি অনুগত থেকেছে। যে ১০০ আসন সমাজবাদী পার্টিকে ছাড়তে হবে সেই সব আসনে এঁদের অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে সমাজবাদী পার্টির নেতৃত্বকেই।
- with inputs from IANS
স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন